হরে কৃষ্ণ কীর্তন(Hare Krishna Kirtan)

হরে কৃষ্ণ কীর্তন
  • হরে কৃষ্ণ কীর্তন (শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ) হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে এই মহামন্ত্র কীৰ্ত্তনই হইল আমাদের অপ্রাকৃত চেতনাশক্তি পুনর্জাগরণের একমাত্র দিব্য উপায় ।

মূলতঃ স্বরূপে আমরা সকল জীবই কৃষ্ণচেতনাময়, কিন্তু অনাদিকাল হইতে জড় বস্তুর সংস্পর্শে আমাদের চেতনা কলুষিত। যে জড় পরিবেশের মধ্যে বর্তমানে আমরা বাস করিতেছি, তাহাকে ‘মায়া’ বা মোহ বলে। ‘মায়া’ শব্দের অর্থ হইল যাহা নহে… ভৃত্য কৃত্রিম উপায়ে সর্ব-শক্তিমান প্রভুর অনুকরণ করিলে তাহাকে মায়া বলে।

আমরা যতই জড়া প্রকৃতির উপর প্রভুত্ব করিবার চেষ্টা করিতেছি, প্রকৃত সম্পদ আত্মসাৎ করিবার প্রয়াস করিতেছি, ততই প্রকৃতির কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলে মায়াজালে জড়াইয়া পড়িতেছি। প্রকৃতিকে জয় করিতে গিয়া প্রকৃতির অধীন হইয়া পড়িতেছি, ইহাই হইল ‘মায়া’। কিন্তু আমাদের শাশ্বত কৃষ্ণভাবনা পুনর্জাগরণের ফলে এখনই জড়া-প্রকৃতির সহিত এই মায়িক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো যায়। হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে

কৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্ত্তন

এই মহামন্ত্র আমাদের চিন্ময় শুদ্ধ চেতনাশক্তির পুনর্জাগরণের অপ্রাকৃত পথ এই অপ্রাকৃত ধ্বনি তরঙ্গ কীর্ত্তন দ্বারা আমরা হৃদয়ের সমস্ত সংশয়, অবিশ্বাস দৃ করিতে পারি, ঐসব সংশয় ও অবিশ্বাসের মূল হইল ভ্রান্ত ধারণা, যথা- যাহা বি দৃশ্যমান, আমি তাহার ‘প্রভু’। কৃষ্ণভাবনা এইরূপ কোন কৃত্রিম মানসিক উৎপীড় নয়’ ইহা জীবের আদি শক্তি। যখন আমরা এই মহামন্ত্র শ্রবণ করি, তখন আমাদে

মহামন্ত্র কীর্তন ২৫ এই চেতনার পুনর্জাগরণ হয়। ভগবদুপলব্ধির এই সহজতম পথটিই হল এ যুগের ধৰ্ম্ম

বাস্তব অভিজ্ঞতা (Practical Experience) হইতেও বোঝা যায় এই মহামন্ত্র কীর্ত্তনের সঙ্গে সঙ্গেই এক অপ্রাকৃত পরিবেশ অনুভব করা যায় । জড়দৃষ্টিতে আমাদের ইন্দ্রিয় সুখভোগ হইল নিম্ন পশুর স্তরভুক্ত।

এই স্তরাপেক্ষা সামান্য উন্নত জীব মায়ার বন্ধন হইতে মুক্তির জন্য মানসিক যুক্তি বলে নিয়োজিত হয়, ইহা অপেক্ষা উন্নত যথেষ্ট বুদ্ধি সম্পন্ন জীব সকল কারণের পরম কারণ ভগবানের সন্ধানে তৎপর হয়।

এই হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্ত্তন আধ্যাত্মিক স্তর হইতে কার্য করে এবং এই ভাবে এই ধ্বনি তরঙ্গ চেতনার সকল নিম্নস্তর (ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধি) অতিক্রম করে। এই মহামন্ত্র কীর্ত্তনের জন্য মন্ত্রের ভাষা বুঝিবার প্রয়োজন নাই, কোন যুক্তি তর্কের প্রয়োজন নাই অথবা বুদ্ধির সহিত ঐক্যসাধন (Intellectural Adjustment) এর কোন প্রয়োজন নাই, ইহা স্বতঃস্ফূর্ত আধ্যাত্মিক স্তর হইতে আসে, তাই কোন রকম পূর্ব যোগ্যতা ছাড়াই যে কেহ ‘অপ্রাকৃত ধ্বনি’-কীৰ্ত্তনে অংশগ্রহণ করিতে পারে ।

এই বিষয়ে লক্ষণীয় বিষয়টি হইল, এই মহামন্ত্র কীর্তন যতদূর সম্ভব শুদ্ধ ভক্তের শ্রীমুখ হইতেই শ্রবণীয়। দুগ্ধ পরমোপাদেয় বস্তু হইলেও সর্পোচ্ছিষ্ট দুগ্ধ যেমন বিষবৎ পরিত্যাজ্য, অভক্তের মুখ হইতে নাম শ্রবণ

মহামন্ত্র কীর্তন ২৫ এই চেতনার পুনর্জাগরণ হয়। ভগবদুপলব্ধির এই সহজতম পথটিই হল এ যুগের ধৰ্ম্ম

হরে’ অর্থাৎ ঈশ্বরের শক্তিকে সম্বোধন করা হয়।হরে কৃষ্ণ কীর্তন ‘কৃষ্ণ’ ও ‘রাম’ এই উভয় শব্দের অর্থ পরম আনন্দ, ‘হরা’ ঈশ্বরের পরম আনন্দময়ী শক্তি। হরার সম্বোধন পদ (Vocative) হরে । ঈশ্বরের এই পরম আনন্দময়ী শক্তি আমাদিগকে ঈশ্বর লাভে সাহায্য করে। ‘মায়া’ হইল ঈশ্বরের অসংখ্য শক্তির মধ্যে একটি, আর আমরাও একটি ভগবানের শক্তি ।

ভগবানের তটস্থাশক্তি জীব সকল মায়াশক্তি অপেক্ষা অধিক উৎকৃষ্ট । এই উৎকৃষ্ট শক্তি জীব যখন নিকৃষ্ট শক্তি মায়ার সংস্পর্শে আসে, তখন এক অপ্রীতিকর (Incompatible) অবস্থার সৃষ্টি হয়। কিন্তু উৎকৃষ্ট তটস্থাশক্তি যখন ‘হরা’ নামের পরমানন্দময়ী শক্তির সংস্পর্শে আসে তখন উহা আনন্দময় স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হয় ।

তৃতীয় অধ্যায় কর্মযোগ, গীতার শ্লোক ১৩,১৪

নামহট্ট পারচয় ‘হরা’ ‘কৃষ্ণ’ ও ‘রাম’ এই তিনটি শব্দ মহামন্ত্রের অপ্রাকৃত বীজ, কীৰ্ত্তন মায়াবদ্ধ জীবের উদ্ধারার্থে, ঈশ্বর ও তাঁহার শক্তির উদ্দেশ্য চিন্ময় আহ্বান। ক্ষুদ্র শিশু মাতৃক্রোড়ের জন্য ব্যাকুল সুরে ক্রন্দন করে তেমনই আমাদেরও ব্যাকুল চিত্তে কীৰ্ত্তন করিলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমাদেরকে কৃপা লাভ করিতে সাহায্য করিবেন

আর যে আন্তরিকভাবে এই মহামন্ত্র কীর্ত্তন করে, সেই ভক্তের নিকট ভগবান আত্মপ্রকাশ করেন । এই কলহ ও কপটতার যুগে আত্মোপলব্ধির উপায় মহামন্ত্র হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। এই মহামন্ত্র কীৰ্ত্তন ব্যতীত জীবের অন্য কোন পন্থা নাই

Leave a Reply

Your email address will not be published.